দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের রেকর্ড সয়াবিন আমদানির সম্ভাবনা

ব্রাজিল থেকে রফতানি বিলম্ব হওয়া ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে চীনে সয়াবিনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল।

ব্রাজিল থেকে রফতানি বিলম্ব হওয়া ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে চীনে সয়াবিনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল। ফলে দেশটি বেশ কিছুদিন কয়েকটি সয়াবিন মিলের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশটিতে ভোজ্যতেলবীজটির আমদানি বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। পাঁচটি গবেষণা ও বাণিজ্য সংস্থা এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সয়াবিন ক্রেতা দেশ চীন। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটি এপ্রিল-জুন পর্যন্ত রেকর্ড ৩ কোটি ১৩ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করতে পারে। এটি গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত চীন মোট ২ কোটি ৯৯ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করেছিল।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর স্টোনএক্সের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট চেং কাং ওয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কম আমদানি ও ব্রাজিলে জমি থেকে ফসল তুলতে দেরি হওয়ায় চীনে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে চীনের তেলবীজ প্রক্রিয়াকরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রাজিল থেকে আমদানি বাড়িয়েছে। কারণ দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সয়াবিন উৎপাদনকারী দেশ। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশে পণ্যটির দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।

গত সপ্তাহে মার্কিন শুল্কের জবাবে ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার মূল্যের সয়াবিনসহ কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে বেইজিং। গুয়োইয়ান ফিউচারসের কৃষি গবেষক লিউ জিনলু জানিয়েছেন, সয়াবিনের ঘাটতি অনেক ব্যাপক ও তীব্র হয়ে উঠছে।

এদিকে মার্চে চীনের আমদানি পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসতে পারে। স্টোনএক্সের হিসাব অনুযায়ী, এ সময় সয়াবিন আমদানির পরিমাণ হতে পারে ৫০ লাখ ২৭ হাজার টন। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৪ সালে রেকর্ড ১০ কোটি ৫০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করেছিল। তবে পশুখাদ্য চাহিদা মেটাতে ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জানুয়ারির শপথের আগে সঞ্চয়ের কারণে মজুদ কমে গেছে।

মাইস্টিলের তথ্য অনুযায়ী, চীনের সমুদ্রবন্দরগুলোয় সয়াবিনের মজুদ ৭ মার্চ ৪০ লাখ টনে নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টন কম।

এছাড়া মার্চে চীনের সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণের পরিমাণ হতে পারে ৫০ লাখ ৮৪ হাজার টন। স্টোনএক্স বলছে, এটি ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১০ দশমিক ১ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ কম।

আরও